শনিবার

হাংরি আন্দোলনের কবি দেবী রায়-এর কবিতা

রবিবারের পড়া: বাংলাভাষার শিল্প ...
সেই শনিগ্রহ
আপনি এত সজ্জন..
কেন যে এককালীন ইয়ারদোস্ত
এত যে অশ্লীল !
কি আর করা যাবে ?
আছেন সেই শনিগ্রহ বন্ধুস্হানে
.
প্রকাশক একজন,
জানিয়েছিলেন ফোনে !
কি আর করা ?
নিশ্চয় ছিলুম আহাম্মক -- নৈলে
ওকে বিশ্বাস করলুম কিভাবে ?
দিন কি যাবে
এভাবে ?

চাঁদের ওপিঠে
ছিল একাকী প্রচণ্ড থমথমে কথা বলার
স্বাধীনতা তথা ফ্রি-স্পিচ ? দুমুখে ও কাজে
মুখোমুখি দাবি রাখে সহাস্য আলোচনায়
.
আজ ৩রা জানুয়ারি উনিশ দিহাজার
আরো এই তীব্র শৈত্যাভাব বুঝিয়ে দেবে 
কাকে বলে শীতের কামড়, একাকীত্ব ? এই মেঘলা দিনান্তে
.
সেই নারী শরীরের ‘ওম’ সুতীব্রভাবে আমায় টানে
বৃক্ষরোপণ কি সম্ভব ? চাঁদের ভূ-পৃষ্ঠে ?

কমলকুমার মজুমদারকে
ভিতরের আগুন, আমাকে শান্ত হতে দেয় না ;
বাহিরের সব উল্টোপাল্টা ঘেয়ো-অশান্তি
আগুনকে, আরও উসকে দেয় !
.
— কেই বা পছন্দ করে উলঙ্গ জীবন ?
..                              .’বাছা, ডিপ্লোম্যাট হও’!           

বুকের মধ্যে সিংহাসন 

এখনও যে ভালোবাসা পায়নি
এবং
যে ভালোবাসা হাতের মুঠোয় পেয়েও হারিয়েছে
..                                            ..এই দুজনের মধ্যে কে বেশি দুঃখী–
..                                           ..দুঃখের ভার, বেশি কার ?
প্রায় সব ফুলই আমি ভালোবাসি
ফুলের ভিড়ে, রজনীগন্ধা সবচেয়ে প্রিয় আমার !
তা বলে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আমাকে
..                                     ..মালাকার হতে বোলো না !
অল্পবিস্তর সব রমণীই আমার ভালোবাসার পাত্রী
তবে বুকের মধ্যে সিংহাসন পেতেছি, শুধু একজনার !
ক্ষণিক দুর্বলতার মোহে আমাকে ভ্রষ্টাচারের দিকে
..                                       ..ঠেলে দিও না!
.
ভালোবাসা পত্রবহুল বৃক্ষের মতন !
বৃক্ষের কাছে হেঁটে গিয়ে স্পষ্ট গলায় বলি :
‘মানুষের হাতে-গড়া পৃথিবীতে, যে-কটা দিন
..                           ..বেঁচেবর্তে আছি
..                                       ..ভরিয়ে তোলো এ-জীবন
ভালোবাসার অভাব যেন কোনোদিন—
..                                             ..গ্রাস না করে আমায় !   
           
    বৈদিক মেঘে
   
       
টেলিগ্রাফের তারে, ঠিক একজোড়া নয় — পরপর
অল্পদূরত্বে দু’জোড়া লেজঝোলা দেখা গেল ভোরে !
সুমিষ্ট লাগল না মোটে, কেন যে ! ওদের কন্ঠস্বর
যেন ফেটে বেরিয়ে আসছিল ! গলা-গলা
ফুলিয়ে ঝগড়া করছিল কি ? জলায় এতকাল কলমি,
শুসনি উঠেছিল বেড়ে, তার ডগায় ফড়িং বেড়াত
ঘুরে ঘুরে ! সব কিছু নস্যাৎ করে ধাঁই থাঁই
করে উঠে যায় জি-প্লাস জলভারানত মেঘ ভেসে
যায় ! এইসব স্পষ্ট অবয়বের পক্ষে এই যে
রুক্ষ কঠোর বাস্তবতা
..            ..ওই ল্যাজঝোলা পাখি
..            ..দেখেছিলাম ভাগ্যিস, তাই রক্ষে !
কারুরই কিছু এসে যায় কি ?
আহা! কী আশ্চর্য, কী আনন্দের  কথা
হে পরম ব্রহ্ম, হে পরমাত্মা
এত বছর প্রাণপাত, তবু তোমার নাগাল
পেলাম না ! সর্বস্তরে, বৈদিক মেঘে ঘোর অন্ধকার !           
   
        অক্ষরের খুঁটিনাটি
   
       
‘অক্ষরের খুঁটিনাটি’ বলতে যা বোঝায় !

ড্রইংরুমে ‘পাতিল, ‘ কি সাজানো যায় ?
রাখি, জানালার পাশে
ফুলদানিতে, চনমনে সজীব ফুল !
‘বনসাই’য়ের দিকে একটানা তাকিয়ে
থাকলে বিকের মধ্যে কষ্ট হয় ! — কে তার
ডালপালা
..           ..দিয়ে ছেঁটে  কী এক ছন্দিত
..                          ..নিপূণ কৌশলে ?
বাহিরে অঝোর বৃষ্টি ! চোখের পারে ভাসে
ব্যবিলন । ভাবি, সে-ও বনসাই এক অর্থে
কী এক নিষ্ঠুর পরাক্রম শক্তি বারবার
ঝাঁপিয়েছে তাত
উপর
..                 ..ওই হিংস্র দাঁত ও নখ…
জীবনও কি
…                    ..এতই মৃত্যুলোভাতুর !

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন