Sunil Gangopadhyay লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Sunil Gangopadhyay লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার

হাংরি আন্দোলন সম্পর্কে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুমিতাভ ঘোষাল

 


হাংরি আন্দোলন সম্পর্কে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুমিতাভ ঘোষাল 

( ‘গদ্য-পদ্য সংবাদ’ পত্রিকায় ১৯৮৬ অক্টোবরে প্রকাশিত )

সুমিতাভ : ষাটের দশকের হাংরি আন্দোলনের সঙ্গে আপনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ কতোটা ?


সুনীল : হাংরি আন্দোলনে আমার কোনো ভূমিকা ছিল না । আমি তখন কৃত্তিবাস নামে একটা পত্রিকার সম্পাদনা করতুম । কৃত্তিবাসের থেকে কয়েকজন এই আন্দোলন শুরু করে । এদের মধ্যে প্রধান ভূমিকা প্রথমে নিয়েছিল মলয় রায়চৌধুরী, সে ছিল আমার বন্ধু সমীর রায়চৌধুরীর ছোটো ভাই । সমীর রায়চৌধুরী কৃত্তিবাসের একজন লেখক এবং ওই গোষ্ঠীরই একজন । মলয়েরও কিছু কিছু লেখা কৃত্তিবাসে বেরিয়েছিল ।


সুমিতাভ : আচ্ছা শক্তি চট্টোপাধ্যায় তো... ( কথায় বাধা দিয়ে )

সুনীল : হ্যাঁ, তারপরে মলয় প্রথমে শুরু করার পর শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাতে যোগ দেয় এবং পরে উৎপলকুমার বসু, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় ও পরিচিতদের মধ্যে অনেকে আসেন  । এইভাবে হাংরি আন্দোলন শুরু হয় ।  কিন্তু এই আন্দোলনের কোনো ইস্তাহার বা কোনো ব্যাপারে আমার কোনো নাম ছিল না বা আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না । 


সুমিতাভ : হাংরি আন্দোলনকে কি আপনি একটা আদৌ সাহিত্য আন্দোলন বলে মনে করেন ?


সুনীল : হাংরি আন্দোলন তো সাহিত্যের আন্দোলন হিসেবেই শুরু হয়েছিল । কতোটা সাহিত্য তারা সৃষ্টি করতে পেরেছিল, সে বিষয়ে আমি কোনো মতামত দেব না । সেটা এখনকার যারা পাঠক তারাই বিচার করবে । তবে নতুন কোনো একটা সাহিত্য তারা সৃষ্টি করতে পেরেছিল এটা ঠিক । 


সুমিতাভ : তখনকার সাহিত্যে এই আন্দোলনের কোনো প্রতিচ্ছবি পড়েছিল কি?


সুনীল : দুটো ব্যাপার হয়েছিল । একটা হয়েছিল কী হাংরি আন্দোলনের যারা প্রধান তারা কিছু কিছু পত্র পত্রিকায় লিফলেট ইত্যাদি ছাপাতে শুরু করে । এই সাহিত্যকে বদলাতে হবে ; অন্যরকম সাহিত্য সৃষ্টি করে পুরোনো মূল্যবোধকে নষ্ট করে দিতে হবে  ইত্যাদি ।


সুমিতাভ : না, সাহিত্যে এর কোনো প্রতিচ্ছাপ পড়েছে কি ?

সুনীল : না । আমি বলব সাহিত্যে এর কোনো ছাপ পড়েছে বলে আমি মনে করি না । তবে এটা একটা গোষ্ঠী, অন্যরকম সাহিত্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল । তবে অ্যাবরাপ্টলি এই আন্দোলন বন্ধ হয়ে যায় । তবে এতোদিন বাদে আবার সেসব নিয়ে আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি । মাঝখানে দশ বছর হাংরিদের সম্পর্কে কথাবার্তা শুনিনি । ( এই দশ বছর মলয় রায়চৌধুরী কলকাতার সাহিত্য জগতের বাইরে ছিলেন, বুলেটিন প্রকাশ করার জন্য টাকা তিনিই দিতেন )।


সুমিতাভ : ট্রাডিশানাল বাংলা সাহিত্যকে কোনোভাবেই এরা একটুও বদলাতে পেরেছিল কি ?


সুনীল : সেটা তো আমি বলতে ওপারব না । হাংরিদের যারা প্রথান, যেমন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, উৎপলকুমার বসু, এরা হাংরি আন্দোলনের মাঝামাঝি অবস্হায় এর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান ।  যখন এই নিয়ে কোর্টে কেস হয়, তখন এরা বিবৃতি দেয় যে, আমাদের সঙ্গে হাংরির কোনো সম্পর্ক নেই । ওদের লেখা আমার মনে হয় বাংলা সাহিত্যের মূল ধারার সঙ্গেই যুক্ত । আলাদাভাবে হাংরি আন্দোলনের কোনো প্রভাব আছে বলে আমি মনে করি না ।


সুমিতাভ : ক্ষমতাবান বেশ কছু লেখক থাকা সত্ত্বেও, হাংরি আন্দোলনের জীবৎকাল খুব অল্প । এর কারণ কি ?


সুনীল :  ক্ষমতাবান লেখকরা প্রথমে তাড়াতাড়ি সরে গেলেন । দ্বিতীয় কথা, এরা সিরিয়াসলি সাহিত্য রচনা করার বদলে এমন কিছু কাজ করতে লাগলেন, যেগুলো অনেকেরই বিরক্তি উদ্রেক করলো । যেমন ধরো এরা কাউকে জুতোর মালা পাঠিয়ে দিল । কাউকে একটা মুখোশ পাঠিয়ে দিল । বা কাউকে টেলিফোন করে বলল, আপনার ছেলে মারা গেছে, বাড়ি চলে যান । এইভাবে কিছু কিছু অল্প বয়সের চ্যাংড়ামি  --- এটা অনেকেই করে, অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু এটাই যেন প্রধান হয়ে দাঁড়াল । লেখার মধ্যে তারা দৃষ্টি আকর্ষণ করার করার জন্য অযথা এবং অকারণ অশ্লীলতা আনার চেষ্টা করল । আমি অবশ্য কোনো শব্দকেই অশ্লীল বলে মনে করি না । তথাকথিত অশ্লীলতা, তথাকথিত অশ্লীল শব্দ । বা আরেকটা ছিল, অন্যকে গালাগালি দেওয়া । এই সমস্ত দিকেই যেন তাদের মন বেশি গেল । অবশ্য অন্য লোকের অন্য মত থাকতে পারে ।


সুমিতাভ : হাংরি লেখাগুলোতে আত্মকামিতা জিনিসটার কোনো ভূমিকা আছে বলে মনে করেন?


সুনীল : তা, আত্মকামীতা মানে ধরো, আমরা কৃত্তিবাসে যেটা বলতাম, যে নতুন আধুনিক সাহিত্য বলতে আমরা কী বুঝতাম ?তখন আমরা বলতাম যে কৃত্তিবাসের মূল সুর হচ্ছে কনফেশন । স্বীকারোক্তিমূলক লেখা । আমরা যেভাবে জীবন যাপন করছি সাহিত্যে সেটাকে ঠিক সেভাবেই স্বীকার করে নেওয়া দরকার । হাংরিরা হয়তো তার থেকেও আরো এক্সট্রিম-এ চলে গিয়েছিল । তারা, যাকে বলে আত্মকণ্ডূয়ন, সেটার দিকে চলে গিয়েছিল । তবে আমার মনে হয় হাংরি আন্দোলনের মূল সুর কৃত্তিবাস ধারারই একটা অঙ্গ ।


সুমিতাভ : নকশাল আন্দোলনের প্রস্তুতিপর্ব, আর হাংরি আন্দোলন, মোটামুটি সমসাময়িক । এর কোনো বিশেষ তাৎপর্য আছে বলে আপনি মনে করেন ?


সুনীল : হাংরি আন্দোলনের মধ্যে রাজনীতি কিছু ছিল না । তবে ক্ষুধার ব্যাপারটা ছিল । তবে সেটা খাদ্য অভাবের যে ক্ষুধা, তা নয় বোধহয় । এটা বোধহয় অন্য কোনো ক্ষুধার কথা ওরা বলতে চেয়েছিল । নকশাল আন্দোলন অনেক ব্যাপক, অনেক মহৎ আত্মত্যাগ আছে । হাংরি আন্দোলন সেরকম কিছু একটা নয় ।


সুমিতাভ : হাংরি আন্দোলন শেষ হয়ে যাবার কম-বেশি পঁচিশ বছর পর, আবার একটা ক্ষুৎকাতর আবহাওয়া, বিশেষত ছোটো পত্র-পত্রিকাগুলোয় চোখে পড়ছে । এরকমটা কেন হচ্ছে বলতে পারেন ?


সুনীল : সেরকম কোনো আবহাওয়া আমার চোখে পড়ছে না । যা চোখে পড়ছে তা হলো হাংরিদের নিয়ে আবার লেখালিখি শুরু হয়েছে । কোনো কোনো পত্রিকায় এদের কেস টেস ছাপা হচ্ছে, হিস্ট্রিটাও ছাপা হয়েছে। মলয় রায়চৌধুরীকে বহুদিন নীরবতার পর আবার লেখালিখি করতে দেখছি ।


সুমিতাভ : সেটা এতদিন পরে হঠাৎ কি কারণে ?


সুনীল : আলাদা কোনো কারণ নেই । এটা নেহাতই কলকাতার ব্যাপার ।


সুমিতাভ : ধন্যবাদ । আমরা তাহলে উঠি…


সুনীল : তবে এটা বলছি, আমার সঙ্গে হাংরিদের সম্পর্ক এই যে আমি তাদের কোনো পত্র-পত্রিকায় লিখিনি । তাদের সঙ্গে আমার কোনো মানসিক মিলও ছিল না । আন্দোলনেও অংশ নিইনি । তবে যখন মামলা হয়, তখন আমার কাছে মলয় রায়চৌধুরী এসেছিল, যেন আমি তার হয়ে সাক্ষ্য দিই । আমি তার পক্ষেই সাক্ষ্য দিয়েছি । আদালতে দাঁড়িয়ে আমি বলেছিলুম, মলয় রায়চৌধুরীর কোনো কবিতায় আমি কোনো অশ্লীলতা খুঁজে পাইনি । আদালতে এটাই আমার সাক্ষ্য ছিল ।


সুমিতাভ : সেটা আপনি স্নেহের বশে করেছিলেন, না নিজের বিশ্বাসে ?


সুনীল : আমি পরে মলয়কে বাড়িতে বলেছিলাম, দেখ তোমার কোনো কবিতাকে যদিও আমি সার্থক কবিতা বলে মনে করি না, কিন্তু কেউ একটা কবিতার মধ্যে কিছু অশ্লীল শব্দ লিখেছে বলে তাকে আদালতে ডেকে নিয়ে গিয়ে শাস্তি দেওয়া হবে, সেটাও আমি সমর্থনযোগ্য মনে করি না । সাহিত্যের জন্য শাস্তিদানের কোনো ঘটনা যদি ঘটে, তবে আমি সবসময় অভিযুক্তের পক্ষেই থাকব ।

( সুমিতাভ ঘোষাল সম্পাদিত 'গদ্য-পদ্য সংবাদ' পত্রিকার অক্টোবর ১৯৮৬ সংখ্যায় প্রকাশিত )

মঙ্গলবার

হাংরি আন্দোলনের সময়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা সমীর রায়চৌধুরীর চিঠি

  Samir Roychoudhury

Bombay
২০/৫
সুনীল
         তোর দীর্ঘ চিঠি পেলাম । তোর মানসিক অবস্হা জেনে যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছি। শক্তিকে আমরাই এত বড় করে তুলেছি । এর মূল দায়িত্ব তোর, আমার ও মলয়ের । এবং এখনো আমার প্রতিটি বন্ধুকে বড় করেই তুলতে চাই আমি । শক্তিকে লেখার জন্য প্রাথমিক উৎসাহ তুইই দিয়েছিলি । বারেবারে বাহবা দিয়ে “বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবি” একথা তুইই প্রথম তুলেছিস । অর্থাৎ শুধু এই যে আজ শক্তি সেকথা নিজে বলছে । চাইবাসায় থাকতেই তোকে বাদ দিয়ে শিল্পের সিংহাসনে বসার একটা ঘোরতর প্ল্যান উৎপল ও শক্তি অনেকদিন আগেই করেছিল । আমাকেও উপস্হিত থাকতে হয়েছিল এই সব আলোচনায় । পত্রিকা বের করার প্ল্যান তখনই হয়। আন্দোলনের ব্যাপারটাও মলয় বারবার তাগাদা দিতে থাকে । আমি বরাবরই কৃত্তিবাসকে ছাড়তে পারব না জানিয়েছি । নানান সেন্টিমেন্টাল কারণে কৃত্তিবাসকে আমি আমার নিজের পত্রিকা মনে করি । অনেকের মতন ‘সুনীলের কাগজ’ মনে করা সম্ভব নয় । শক্তি ও উৎপল তোকে বাদ দিয়ে ‘জেব্রা’ বার করতে পারবে কিনা মনে হয় না । অন্তত মলয় এটা হতে দেবে না। তাছাড়া সমস্ত নীচতার মধ্যেও সূক্ষ্ম বোধশক্তির দংশন শক্তিও এড়াতে পারবে না । আমাদের মধ্যে একটা ভাঙন গড়ে উঠবে এ আমার বিশ্বাস হয় না । হলে শক্তিরই প্রচণ্ড ক্ষতি হবে । টাকাপয়সার দরকার ওর শিল্পের জন্যও, শীলাও আছে, দার্শনিক ঋণও প্রয়োজন, সমীর ও মলয়কে ও সেইসঙ্গে সুনীলকে বাদ দিলে যে মারাত্মক অবস্হায় ও পড়বে তা ও জানে । আমাকে শক্তি লিখেছে ‘জেব্রা’য় তোর লেখা থাকছে । বেরোতে নাকি মাস দুয়েক দেরি । বরং উৎপলই একটু বেশিমাত্রায় তোর বিরোধী । হয়তো ঈর্ষা, হয়তো অন্য কোনো কারণ । উৎপলকে খুশি রাখতে গিয়ে হয়তো এই সব জটিলতায় শক্তি বাধ্য হচ্ছে । মলয়ের অভিমান এই যে তুই ওকে বিন্দুমাত্র স্নেহ করিস না ; নিতান্ত ছেলেমানুষী । সেবার শীলা পাটনায় ভর্তি হতে গেলে শক্তিকে পাটনায় নিয়ে যাই আমি । সেখানে মলয় ওকে এই আন্দোলন সম্পর্কে Convince করে । ছোটোগল্পে লিখেছে যে গল্পটা, তারই প্লট ও প্ল্যান মলয় শক্তিকে দেয় ( ক্ষুৎকাতর আক্রমণ )। ঠিক হয় যে কলকাতায় গিয়ে পুস্তিকা বের করে ব্যাপারটা আরম্ভ হবে । আমরা সবাই থাকবো। তুইও নিশ্চয়ই । আমাদের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা না করেই শক্তি কলকাতায় ফিরেই ব্যাপারটা আরম্ভ করে দেয় । এদিকে ট্রেনিং-এ চলে আসতে হয় আমাকে । মলয় পাটনায় । কলকাতায় শক্তি একা নানান ভাবে নিজের স্বপক্ষে সিংহাসন গড়ে তোলে ক্রমে । তুই ব্যাপারটায় যোগ না দেওয়ায়, যেটা ভুল-বোঝাবুঝিতে পেছিয়ে গেছে, আজ অবস্হা এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। এটা মলয়ও বলেছে । মলয় এখন যেকোনো রকমে তোকে চায় । ফলে হয়তো তোকে এই ধরণের আক্রমণ চালাচ্ছে । অদ্ভুত সব জটিলতা । ‘ক্ষুধার্ত’ নামে একটা কবিতা সংকলন বার করতে চায় ও । আমাকে লিখেছে তোকে পদ্য পাঠাতে বলতে । ব্যাপারটা নিজেই সম্পাদনা করতে চায়, শক্তির জটিলতা এড়িয়ে । সন্দীপনও বোধহয় একটা গদ্য সংকলন বের করবে । আমি ‘চিহ্ণ’, ‘ছোটগল্প’ ও ‘জেব্রা’র জন্য ছোটগল্প পাঠিয়েছি ওদেরই অনুরোধে ।
         খ্যাতির প্রতি শক্তির প্রলোভন চিরদিনই আছে । ওর পরিবেশ অনুযায়ী হয়তো এটা স্বাভাবিক । আসলে মানুষ না হয়েই শিল্পী হওয়া যায়, এটাই যতো গণ্ডগোলের। ছোটোলোক, নীচ ও চোরও শিল্পী হতে পারে । শিল্পী হওয়ার জন্য বরং এসব ব্যাপার সাহায্যই করে । ফলে বন্ধুত্ব, মনুষ্যত্ব নিয়ে গণ্ডোগোল বাধে ।
         এক মুহূর্তেই হয়তো শক্তির সমস্ত দম্ভ, অহংকার, নীচতা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া যায় বাংলাদেশের কাছে । এর উপযুক্ত নজিরের অভাব নেই আমার কাছে ; কিন্তু শক্তির বিরুদ্ধে বা কারোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় কোনোদিন । আমার কতকগুলো নিজস্ব আদর্শ আছে, তা ভুল বা ঠিক হোক আমি তা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই । প্রতিক্রিয়া হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না ।
         কৃত্তিবাসের জন্যও তোর যে আদর্শ, তাকে ধরে রাখতে হবে তোকে, আশপাশের কারো চিৎকারে বিব্রত হওয়ার কিছুই নেই । কৃত্তিবাস আমরা বের করে যাবোই । আমি ব্যক্তিগতভাবে শিল্পের চেয়ে মানুষকে বেশি ভালোবাসি । শক্তি শিল্পী হিসেবে অনেক বড়ো ও মানুষের চেয়ে শিল্পকে অনেক অনেক বড়ো মনে করে । আমি শিল্পকে পৃথক মনে করতে পারি না ।
         প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গী পৃথক হওয়াই স্বাভাবিক এবং উচিতও । শক্তি বা উৎপলের মতো কবিতা না লিখলে কবি নয়, এসব ছেলেমানুষীতে আমি বিশ্বাস করি না । শক্তির কিছু-কিছু কবিতা যেমন আমাকে উন্মত্ত  বিহ্বল করে, অলোকরঞ্জনের কোনো কোনো কবিতায় আমি তেমনই প্রস্ফূট হয়ে যাই । সেই মুহূর্তে অলোকরঞ্জনকে আমার সমস্ত সত্তার মালিক মনে হয় । কি করে তাকে অস্বীকার করি ? তেমনই হয়তো এমনও কেউ আছেন যাঁর তারাপদর পদ্যে আরোগ্য হয় । এসব শ্রেষ্ঠত্ব স্হির করার আমরা কে ? যাঁরা কবিতা পড়েন তাঁদের ওপরই, সময়ের ওপর, এসব ছেড়ে না দিয়ে নিজেদের ঢাক ঢোল নিয়ে কাড়াকাড়ি করার কি যে সুখ আমি বুঝি না । এসব চালিয়ে গেলে শক্তি অনেক বড়ো ভুল করবে । যতো বড়ো হতে পারে ও তাকে নিজ হাতে খর্ব করবে । হয়তো অ্যালেনের বিশ্বজোড়া নাম দেখে ও কিছুটা উত্তেজিত হয়েছে । একথা শক্তি কয়েকবার বলেওছে আমাকে ।
         জুনে পনেরো তারিখে এখান থেকে রওনা হয়ে সতেরো তারিখে চাইবাসা পৌঁছোব। তুই আয় না তখন । শক্তিকেও আসতে বলব । একসঙ্গে তিনজন থাকলে অনেক ভুল বোঝাবুঝি ভেঙে যাবে আপনা থেকেই । চারিদিকে বেড়িয়ে বেড়ানো যাবে । বেলাও বেশ সুস্হ হয়ে উঠেছে।
         চিঠি দিস । হাংরি জেনারেশনের বিরুদ্ধেই না হয় কয়েকটা প্রচণ্ড গদ্য ও পদ্য লেখ । হাংরি জেনারেশনের একটা বিশেষ পুস্তিকায় বের করব আমি ; মলয়ও রাজি হবে । আসলে এই সব আন্দোলনের চেয়ে হৃদয়ের আন্দোলনটাই আগে দরকার ।
         সারা জীবন একাকীত্বের দুর্ভোগ হয়তো এভাবেই আত্মসাৎ করে যেতে হবে আমাকে । তবু এবং হয়তো এই জন্যেই শিল্পের চেয়ে আমি মানুষকে পৃথক করতে পারি না, বড়ো মনে করার বা ছোট মনে করার কারণ খুঁজে পাই না ।
                                                                       সমীর রায়চৌধুরী


সোমবার

হাংরি আন্দোলনের সময়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা মলয় রায়চৌধুরীর চিঠি

পাটনা
১.৯.১৯৬২
সুনীলদা,
         শক্তিদাকে আমি ভয়ংকর ভালবাসি, অথচ শক্তিদা আমাকে ভালো তো বাসেই না, উপরন্তু উদাসীন । আপনি লক্ষ করে থাকবেন, আধুনিক কবিতা বা আধুনিক ছোটগল্প সম্পর্কে আমার এমন কোনো প্রবন্ধ নেই যাতে শক্তিদার নাম নেই । শক্তিদা তো আমার কথা ভুলেই থাকেন । কেবল কলকাতার কিছু যুবকের সঙ্গে সময় কাটান, যারা শক্তিদাকে শ্রদ্ধা করা তো দূরের কথা, আমার মতন ভালোবাসে না ।
         শক্তিদা একেবারে মেয়েদের মতো । সুতরাং শক্তিদাকে আমার কাছে টেনে এনে, আমার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভাগিয়ে দেওয়ার একমাত্র উপায় হলো চতুর্দিক থেকে ওঁকে আক্রমণ করে দিশেহারা করে দেওয়া, তারপর উপর্যুপরি আকর্ষণ করা -- অনেকটা মেফিসটোফিলিসের মতো।
         আমি জানি, আক্রমণের পর হঠাৎ আহ্বান জানালে, তখন আর আমার সম্পর্কে শক্তিদার উদাসীন থাকা সম্ভব হবে না । আর আমি ছাড়া এখন শক্তিদার চলবেও না ।
         শক্তিদাকে আমি লিখেছি, প্রেসের সব কাজ আপনাকে বুঝিয়ে দিতে । এই ইশারাটা আমি আশা করেছিলাম কাজ করবে । ভেবেছিলাম যে শক্তিদা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন, যে সুনীলদা সম্পর্কে আমি আজ পর্যন্ত কোথাও কিছু লিখিনি, তাঁকেই বলছি দায়িত্বটা দিতে। কিন্তু এর পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেলেন উনি, ধরতে পারলেন না কি আমার বলার উদ্দেশ্যটা । পাটনায় যখন এসেছিলেন শক্তিদা, তখন ওঁর সমস্ত রচনার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ওনাকে জানিয়েছিলাম । অথচ উনি বুঝতেই পারলেন না শুধু ওঁর রচনারই আমি পারছি আলোচনা করতে, আরও যাঁদের নাম উনি করলেন যাঁদের সম্পর্কে আমায় হ্যাঁ-হুঁ দিয়ে সারতে হলো ।
         শক্তিদা আমার আক্রমণাত্মক চিঠি আপনাকে দেখিয়েছেন । ঠিক তারপরেই আহ্বানের চিঠিটা পেয়ে উনি নিশ্চয়ই ঘাবড়ে গেছেন । বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই যে আক্রমণ করাটা ছিল আহ্বানের অন্য রূপ । শক্তিদাকে অপমান করা আমার পক্ষে অসম্ভব । কারণ, দাদার চেয়েও শক্তিদাকে বোধহয় আমি বেশি ভালোবাসি । এখন, শক্তিদাকে ভালো বাসতেই হবে আমায় । শক্তিদা কলকাতায় আরও অনেকের সঙ্গে ঘুরবেন । আমার সম্পর্কে উদাসীন থাকবেন, এটা আমার পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব ।
         আমি যে চিঠি লিখব, শক্তিদা তার উত্তর দেবেন দাদাকে । অথচ দাদা বা আপনি শক্তিদাকে যতোটা ভালোবাসেন, আমি ওঁকে তার চেয়েও বেশি ভালোবাসি ।
         আপনি হয়তো বলবেন, “শক্তি যেরকম মেয়েলি, তুমি সেরকম ছেলেমানুষ” -- ( শ্রীমান লিখেছেন । )-- কিন্তু এটা লৌকিকতার ব্যাপার নয় । শক্তিদাকে আমি ভালোবাসি, আর ওখান থেকে সরে আসা সম্ভব নয় । শ্রদ্ধা করি আপনাকে বেশি, কিন্তু শক্তিদাকে করি এমন কিছু একটা, যেটা ভায়োলেন্ট, হট, ডেসপারেট ।
         শক্তিদার লেখা দিয়ে আমি এই যুগটাকেই চিহ্ণিত করতে চাইছি । এটাও কি শক্তিদার পক্ষে বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি ?
         প্রণাম নেবেন ।
                                                                             মলয়


উত্তম দত্ত : হাংরি জেনারেশনের গুলি খাওয়া বাঘ মলয় রায়চৌধুরী

হাংরি জেনারেশনের গুলি খাওয়া বাঘ মলয় রায়চৌধুরীকে লেখা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি পত্র , যা গত শতাব্দীর ষাটের দশকের বাংলা সাহিত্যের একটি বিতর্কিত ঐতিহাসিক বাতাবরণের জীবন্ত দলিল । পত্রটির জন্য ঋণী রইলাম ডঃ উত্তম দাশের কাছে । পড়ুন ----- 

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর চিঠি ( মলয় রায়চৌধুরীকে লেখা )
আয়ওয়া
১০ জুন ১৯৬৪
মলয়,
তুমি কলকাতায় কী সব কাণ্ডের বড়াই করে চিঠি লিখেছ জানি না। কী কান্ড করছ ? আমার বন্ধুবান্ধবদের কেউ-কেউ ভাসাভাসা লিখেছে বটে কফিহাউসে কী সব গণ্ডোগোলের কথা।


কিছু লেখার বদলে আন্দোলন ও হাঙ্গামা করার দিকেই তোমার লক্ষ্য বেশি। রাত্রে তোমার ঘুম হয় তো ? এ-সব কিছু না --- আমার ওতে কোনো মাথাব্যথা নেই। যত খুশি আন্দোলন করে যেতে পারো --- বাংলা কবিতার ওতে কিছু আসে যায় না। মনে হয় খুব একটা শর্টকাট খ্যাতি পাবার লোভ তোমার। পেতেও পারো বলা যায় না। আমি এসব আন্দোলন কখনো করিনি, নিজের হৃৎস্পন্দন নিয়ে আমি এতই ব্যস্ত।


তবে, একথা ঠিক, কলকাতা শহরটা আমার। ফিরে গিয়ে আমি ওখানে রাজত্ব করব। তোমরা তার একচুলও বদলাতে পারবে না। আমার বন্ধুবান্ধবরা অনেকেই সম্রাট। তোমাকে ভয় করতুম, যদি তোমার মধ্যে এখন পর্যন্ত একটুও জেল্লা দেখতে পেতুম। আমার চেয়ে কম বয়সিদের মধ্যে একমাত্র তন্ময় দত্ত এসেছিল, আমার চেয়ে অন্তত ছ বছরের ছোটো--- কিন্তু জীবনানন্দের পর অত শক্তিশালী কবি এদেশে আর কেউ আসেনি। প্রচণ্ড অভিমান করে ও চলে গেছে। সেজন্যে এখনও আমি অপরের হয়ে অনুতাপ করি। আমি নিজে তো এখনও কিছুই লিখিনি, লেখার তোড়জোড় করছি মাত্র, কিন্তু তোমার মতো কবিতাকে কমার্শিয়াল করার কথা আমার কখনো মাথায় আসেনি। বালজাকের মতো আমি আমার ভোকাবুলারি আলাদা করে নিয়েছি কবিতা ও গদ্যে। তোমার প্রতি আমার যতই স্নেহ থাক মলয়, কিন্তু তোমার কবিতা সম্বন্ধে এখনো কোনোরকম উৎসাহ আমার মনে জাগেনি। প্রতীক্ষা করে আছি অবশ্য।


অনেকের ধারণা যে পরবর্তী তরুণ জেনারেশনের কবিদের হাতে না রাখলে সাহিত্যে খ্যাতি টেকে না। সে জন্যে আমার বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে কেউ-কেউ একসময় তোমাদের মুরুব্বি হয়েছিল। আমি ওসব গ্রাহ্য করি না। নিজের পায়ে আমার যথেষ্ট জোর আছে, এমনকী একা দাঁড়াবার। আমার কথা হল : যে যে বন্ধু আছ, কাছে এসো, যে ভালো কবিতা লেখো কাছে এসো --- যে যে বন্ধু নও, বাজে কবিতা লেখো, দূর হয়ে যাও কাছ থেকে। বয়সের ব্যবধান তোলা আমার কাছে অত্যন্ত ভালগার লাগে।

চালিয়ে যাও ও সব আন্দোলন কিংবা জেনারেশনের ভণ্ডামি। আমার ওসব পড়তে কিংবা দেখতে মজাই লাগে। দূর থেকে। সাহিত্যের ওপর মৌরসি পাট্টা বসাতে এক-এক দলের অত লোভ কী করে আসে, কী জানি। তবে একটা কথা জানিয়ে রাখা ভালো। আমাকে দেখেছ নিশ্চয় শান্তশিষ্ট, ভালো মানুষ। আমি তাই-ই, যদিও গায়ে পদ্মাপারের রক্ত আছে। সুতরাং তোমাদের উচিত আমাকে দূরে-দূরে রাখা, বেশি খোঁচাখুঁচি না করা। নইলে, হঠাৎ উত্তেজিত হলে কী করব বলা যায় না। জীবনে ওরকম উত্তেজিত হয়েছি পৌনে একবার। গতবছর। দুএকজন বন্ধুবান্ধব ও-দলে আছে বলে নিতান্ত স্নেহবশতই তোমাদের হাংরি জেনারেশন গোড়ার দিকে ভেঙে দিইনি। এখনও সেক্ষমতা রাখি, জেনে রেখো। তবে এখনও ইচ্ছে নেই ও খেলাঘর ভাঙার।


আমার এক বন্ধু জানিয়েছে যে তোমরা নাকি আমার কোনো-কোনো চিঠির অংশবিশেষ ছাপিয়েছ। পত্রসাহিত্য-ফাহিত্য করার জন্য আমি চিঠি লিখি না। আমার চিঠি নেহাত কেজো কথা। অবশ্য লুকোবারও কিছু নেই। কিন্তু আগে-পরের কথা বাদ দিয়ে, ডটডট মেরে চালাকির জন্য আমার কোনো চিঠি কেউ ছাপিয়ে থাকে--- তবে আড়াই মাস পরে ফিরে তার কান ধরে দুই থাপ্পড় লাগাব বলে দিয়ো।


আশা করি শারীরিক ভালো আছ। আমার ভালোবাসা নিও।
সুনীলদা
Comments
Sudipta Pramanik
Sudipta Pramanik কি কান্ড!!
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
উত্তম দত্ত
উত্তম দত্ত কী কান্ড?
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Suman Saha
Suman Saha অত্যন্ত দুর্লভ অজানা একটা ইতিহাস। স্যার আপনি অনুমতি দিলে আমি আমার পরিচিত দের মধ্যে বিষয় টি শেয়ার করতে চাই। অনুমতির অপেক্ষায় রইলাম। এমন একটা বিষয় সামনে আনার জন্য আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
উত্তম দত্ত
উত্তম দত্ত শুভেচ্ছা
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
সর্ভানু দাশগুপ্ত
সর্ভানু দাশগুপ্ত ১৯৬৪ সালে হাংরি বুলেটিনে প্রকাশিত "প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার" কবিতাটির জন্য কবি মলয় রায়চৌধুরী অশ্লীলতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন | ১৯৬৭ সালে উচ্চ আদালতে অভিযোগমুক্ত হন | কবির পক্ষে সাক্ষীদের মধ্যে একজন ছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় |সুনীলবাবু আদালতে বলেছিলেন এটি খুব ভালো কবিতা এবং কবিতাটির মধ্যে অশ্লীলতা নেই|
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
উত্তম দত্ত
উত্তম দত্ত শেষ কথাটি কিছু বিতর্কিত।
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Asoke Chakravarty
Asoke Chakravarty @ Sarvanu , Uttam : adaalatay sunilda sotyo kathaa bolenni. Uni Moloy-er proyojanay oi ukti korechhilen. Aadalater baairay sampurno vinnomat poshan korten.
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Arghya Dutta
Arghya Dutta 'কবিতাটির মধ্যে অশ্লীলতা নেই' এক কথা আর 'এটি খুব ভালো কবিতা' অন্য কথা। প্রথম কথাটি যে উনি বলেছিলেন তা মলয় রায়চৌধুরীর নিজের লেখাতেও পড়েছি। দ্বিতীয় কথাটি মনে হচ্ছে আগে কোথাও পড়ি নি। এ তথ্য তুমি কোথায় পেলে? আর কারো কারাদন্ড বাঁচানোই বোধহয় অভিযুক্ত-র সাক্ষী হয়ে কাঠগড়ায় ওঠার মুখ্য কারণ, সাহিত্যের সৎ বিচার তখন গৌণ। @সরভ।নু
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y · Edited
Asoke Chakravarty
Asoke Chakravarty Ei lekhaati aagay pothito. Pryaato bandhu Uttam Daser songay Moloy-er sahityo bodh niay aalochanaa hoto. Sunildar songay bistor, Debi Roy er songay ebong Shraddheyo Shankhdar songay aalpo bistor aalochanaa hoy-aychhay. aami ei siddhaantay uponito jay MSee more
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
উত্তম দত্ত
উত্তম দত্ত সুন্দর ও সুচিন্তিত অভিমত।
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Srimanta Ghosh
Srimanta Ghosh সেয়ার করলাম ......
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y · Edited
Deblina Dhar
Deblina Dhar khub bhalo...
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Tanusri Paul
Tanusri Paul share korchi.
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Ratna Banerjee
Ratna Banerjee অনেক ধন্যবাদ এই পোস্টটির জন্য। শেয়ার করলাম।
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y · Edited
উত্তম দত্ত
উত্তম দত্ত শুভেচ্ছা
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Ranjan Roy
Ranjan Roy আমার একটি ভাবনার কথা সর্ভানু বলে দিয়েছে ...সুনীল বাবু সেদিন হাংরিদের হয়েই তাঁর মতামত দিয়েছিলেন ! এবং এটাও জানি শক্তি সুনীল বাবুরাও এক সময় হাংরির শরিক হয়েছিলেন ! পরে শাসকের ভয়ে ,পাঠকের গ্রহণ যোগ্যতার ভয়ে পিছিয়ে এসেছিলেন ! উৎপল কুমার বসু তো পুলিশের কাছে See more
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
শাশ্বতী সান্যাল
শাশ্বতী সান্যাল কিন্তু যেভাবে তন্ময় দত্ত প্রসঙ্গ এল, তাতে কী মনে হয়! অহংকারের দাঁত নখ? অবশ্য তোমার শেষ কথাগুলোর সাথে আমি সম্পূর্ণ সহমত। সত্যিই কবি-সাহিত্যিকদের কোনটা মুখ আর কোনটা মুখোশ, এ দ্বন্দ্বে আমি চিরটাকাল ভুগে এলাম
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Ranjan Roy
Ranjan Roy ভাগ্যিস তন্ময় দত্ত ছেড়ে চলে গেছেন ! নইলে সুনীল বাবুর পরীক্ষাটা বোঝা যেত ..আমার পড়াশোনা খুব কম ..তবে যেটুকু জানি রবীন্দ্রনাথের পরে বুদ্ধদেব বসুই একমাত্র ব্যক্তি যিনি নিজে হাতে জীবনানন্দের কাব্য ছেপে কবিকে আলোয় এনেছিলেন ! এরপর এমন পূর্বসূরি আছেন কিনা আমার জানা নেই ! ...
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Arghya Dutta
Arghya Dutta আমি শাশ্বতীর পাশে থাকলাম এই প্রসঙ্গে। তবে এসব বিষয়ে সামনা সামনি বসে আলোচনা না করলে বিস্তর ভুলবোঝাবুঝির সম্ভাবনা থাকে। আর আমরা মানুষের পিছিয়ে আসা দেখি, কিন্তু তার কারণটা নিজেরা অনুমান করে নিই বাঁধা ছকে। শুরুতে কোনো কিছুর শরিক হয়েও পিছিয়ে আসার কারন ঐ ভয় See more
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y · Edited
Ranjan Roy
Ranjan Roy যাঁরা একদিন নিজেরাই হাংরি আন্দোলনে ছিলেন তাঁরাই পরে যদি হাংরিদের গালিগালাজ করেন ..আর সেটাকে যদি মান্যতা দিতে হয় তাহলে সুবোধ সরকার আর জয় গোস্বামীরা রং বদল করে ভালই করেছেন অর্ঘ্য দা !.. যে যখন ক্ষমতায় আসবেন নানা কারণ দেখিয়ে তাঁদের সঙ্গে ভিড়ে যাওয়াতে অন্যায় কিছু থাকে না আর !.. আর নীতি আদর্শের কথা না হয় শুধু পাঠকদের জন্যই বরাদ্দ রইলো ....এবং নিজের অবস্থান বদলাতে না পেরে শঙ্খ বাবুর মত কতিপয় মানুষ খুব বোকামিই করেছেন !
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Arghya Dutta
Arghya Dutta ব্যাক্তি স্বার্থে সুচতুর রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তন এবং অন্যের শুরু করা সাহিত্য আন্দোলন থেকে কিছুদিন বাদে ভুল বুঝতে পেরে সরে আসা একই গোত্রিয় কিনা আমার সন্দেহ আছে। বরং শাসকের ভয়ের তোয়াক্কা না করেই তো দেখছি উনি অভিযুক্তর পক্ষে সাক্ষী হয়েছেন!
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Pallab Ganguly
Pallab Ganguly এই চিঠিটা দিয়ে সুনীল গাঙ্গুলীর চরিত্রের মূল্যায়ন অন্যায় হবে যদি “যদি ডট ডট দিয়ে চালাকি মেরে” লেখা চিঠিটা পাশাপাশি না রাখা হয়। প্ররোচনার মাত্রা বা প্রেক্ষাপটটা জানাটা খুব জরুরী। না হলে বোঝা মুশকিল চিঠিতে প্রকাশিত আবেগে কোনটা বেশী পরিমাণে ছিল— প্রতিভSee more
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Ranjan Roy
Ranjan Roy আমার পড়াশোনা তেমন বেশি নয় ! তবু যেটুকু পড়েছি এটা বুঝেছি যে হাংরিদের নিয়ে শক্তি সুনীলের অবস্থান ছিল আপেক্ষিক ! হাংরিতে যোগ দেওয়া কিম্বা হাংরি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া অথবা হাংরিদের গালিগালাজ করা পর্যন্ত .....জানি না কোন অবস্থানটা ঠিক !(পল্লব বাবু )
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Kobi Kaushik Ganguly
Kobi Kaushik Ganguly যতদূর জানি সুনীল এই আন্দোলনের সঙ্গে বিন্দুমাত্র যুক্ত ছিলেন না । চিঠিটা যাই হোক মলয় যথেষ্ট শক্তিশালী লেখক তা তিনি সুনীলের মতন জনপ্রিয় না হলেও ।
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y · Edited
Samarjit Sinha
Samarjit Sinha চিঠিটা আগে পড়েছি...
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Sarit Dutta
Sarit Dutta উত্তমবাবু এই চিঠিটা কি আপনার ব্যক্তিগত সংগ্রহে আছে? নতুবা উৎসটা একটু জানালে ভালো হয়।
মানে আর কিছু না আমি একটা লেখার জন্যই হাংরিদের নিয়ে সামান্য পড়াশুনো করেছিলুম। তো ---- জিজ্ঞাসা পত্রিকার পঞ্চম বর্ষের কার্তিক পৌষ সংখ্যায় মলয় রায়চৌধুরীর নিজের লেখায় এইরক
See more
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
উত্তম দত্ত
উত্তম দত্ত চিঠিটি উত্তমবাবু পরে তাঁর হাংরিদের নিয়ে লেখা বইতে ছেপেছিলেন বলে জানি। আর আমার কাছে আরেকটি চিঠি আছে সুনীলদার, সেটা সমীর রায় চৌধুরীকে লেখা। তাতে সুনীলদা বলেছেন, আদালতে তিনি ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে মিথ্যা বলেছেন, শুধু সাহিত্যের উপরে পুলিশের হস্তক্ষেপ সমর্থন করেন না বলে।
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Sarit Dutta
Sarit Dutta ধন্যবাদ দাদা। আসলে আমার খটকাটা লাগছিলো অন্য জায়গায়। আমাদের প্রজন্ম মলয় রায়চৌধুরীকে যেভাবে জানি তাতে এইরকম একটা মারাত্মক পত্রাঘাতের পরও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পর্কে ওনার সশ্রদ্ধ অবস্থান মানতে পারা কঠিন।
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Asoke Chakravarty
Asoke Chakravarty Uttam Datta : Thik oi kathaa Sunilda bolechhilen .. "Aami to naastik, dhrmagrantho chhun-ay ki bollam tatay ki-i baa esay gelo."
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Ranjan Roy
Ranjan Roy হাংরি আন্দোলন সম্পর্কে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অবস্থান বদলে বদলে গেছে ...
1. মলয় রায় চৌধুরীর প্রথম কাব্য " শয়তানের মুখ "(1964)এর প্রকাশক ছিলেন সুনীল ! যদিও সেখানে এই আন্দোলন নিয়ে তাঁর সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য ছিল না !
2. লিটিল ম্যাগাজিন গবেষক কমল গঙ্গোপাধ্যা
See more
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Sarit Dutta
Sarit Dutta আমি ঠিক এই দ্বান্দিকতার কথাটাই বলতে চাইছি
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Anita Majumder
Anita Majumder আমি শেয়ার করবোই এমন অজানা তথ্য.. প্লিজ।
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y
Manas Chakraborty
Manas Chakraborty কি লাভ এ সবে ! হাংরি , আধুনিক , পুনরাধুনিক ,প্রাচীন পন্থী ... আমার কাছে সাহিত্য কতটা আয়না হয়ে উঠলো সেটাই বিবেচ্য .. খুব কম কবিতা লিখেও সলিল চৌধুরী কেবল "শপথ" কবিতার স্রষ্টা বলে স্মরণীয় , দুর্ভিক্ষের দ্বারে বসে যদি কবি গোলাপের অনুবাদ শোনান তখন তাঁকে আর নিতে পারি না ... মানুষ খেতে পাচ্ছে না এর থেকে অশ্লীল কিছু হয় !
যে যেমন খুশি পরীক্ষা করুন পাঠক বুঝে নেবেই আসল সাহিত্য কে
Manage
LikeShow More Reactions
· Reply · 2y