সমীরণ ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমীরণ ঘোষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার

হাংরি আন্দোলন-এর কবি সমীরণ ঘোষ সম্পর্কে রাজা সরকার লিখেছেন :

 


  • রক্তবীজ
    ব্যক্তিগতভাবে আমার একটা হিসেব আছে যে, জীবনানন্দ দাশ মৃত্যুর বছর কুড়ি পর আবার ফিরে এসেছিলেন কলকাতায়। যেমন ফাল্গুনী রায় ফিরে এসেছিলেন মৃত্যুর পনের বছর পর শিলিগুড়ির কলেজ পাড়ায়। এমন আরও অনেকেই হয়তো ফিরে ফিরে এসেছিলেন। আমি, আমার জানা সকল প্রয়াত কবির তালিকা এখন দিচ্ছিনা। দিচ্ছি শুধু একজনের; তিনি সমীরণ ঘোষ। মৃত্যুর আট বছর দুইশ একুশ দিন পর তিনি ফিরে এসেছেন। ফিরে এসেছেন ডুয়ার্সের বানারহাট সংলগ্ন কলাবাড়ি নামক স্থানে। সেখানে দিবাকর ভট্টাচার্য্য নামে এক প্রবীণ সাহিত্যকর্মীর সংগে তার দেখা হয়েছে। তিনি ফোনে আমাকে জানিয়েছেন।
    দিবাকর ভট্টাচার্য্য তার জীবৎকালের এক পর্যায়ে হাঁটতে হাঁটতে এক প্রান্তিকতম বিন্দুতে এসে এই সময় দাঁড়িয়ে আছেন। তার হাতে একটি কাব্যগ্রন্থ, যার নাম রক্তবীজ, প্রণেতা সমীরণ ঘোষ। সেই কাব্যগ্রন্থ পাঠ করতে করতে হঠাৎ থেমে গিয়ে দিবাকর আমাকে ফোন করলেন। ফোন করে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন। কান্না সংবরণ করতে করতে বলতে লাগলেন---রাজা, সমীরণের এই বইটার মুদ্রক ও প্রকাশক ছিলাম আমিরে--- কতকাল আগের কথা---ঠিকমত ওর পাণ্ডুলিপি পড়েছিলাম কি না আজ আর মনে নেই, পড়ে থাকলেও ভুলে গেছি---কিন্তু আজ সেই লেখা পড়ছি, পড়ে দেখছি---কী সব কবিতা লিখেছিলো সমীরণ---এত বছর পার হয়ে গেল---এই সব কবিতার,এইরকম একটি বইয়ের খোঁজ হয়নি কেন এতকাল---এ কি আমাদের ব্যর্থতা নয় ! এ তো বাংলা কবিতার পাঠক হিসেবে আমাদের ব্যর্থতা! বইটি আমি এখন বুকে জড়িয়ে ধরে আছি।
    এমন এক ফোনালাপ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমি শুনতে পারছি সমীরণ তার হাস্‌কি গলায় হাসছে আর দিবাকরকে বলছে---নে হয়েছে, এখন ছাড় ছাড়---।
    এই পর্যন্ত শুনে আমি মনে মনে এই সকল বিস্মরণের পথরেখা দেখতে দেখতে ভাবলাম একটা বয়সের পর কান্নাকে বোধ হয় আর আটকানো যায় না। দিবাকর আর একটু কাঁদুক।
    সমীরণের 'রক্তবীজ' কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছিলো ১৯৮৫ সনে। দিবাকর ভট্টচার্য্য'র যুক্তপ্রয়াস প্রিন্টার্স,আলিপুরদুয়ার থেকে। স্বভাবতই ধরা যায় কবিতাগুলো হয়তো লেখা হয়েছিলো সেই আশির দশকের প্রথম ভাগে। ঠিক সেই সময়ের পথরেখা ধরে এগুতে থাকলে চোখে পড়বে শিলিগুড়ির এক যুবককে। যে দুপুরের খর রোদ বা ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকল পরিতাপ ও স্নেহের ভাণ্ড উপুড় করে পরিক্রমা করে চলেছেন তার পেশাজীবনের পথ। তারজন্য সেদিন জীবনের এমন কোনো আয়োজন ছিলো না যা দিয়ে তাঁর সেদিনের ক্লান্তি ও শ্রম জড়ানো পদবিক্ষেপগুলো দুদণ্ড সুস্থিরতা পায়। তাঁর কবিতা-ভাষার জন্মের জন্য এমনই এক জীবন সে প্রাপ্ত হয়েছিলো।
    'রক্তবীজ' সমীরণের অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থিত অগ্রস্থিত সকল কবিতা নিয়ে তাঁর একটি কবিতাসমগ্র এখন সময়ের আকাঙ্ক্ষা। সমীরণ তনয় সব্যসাচীর সংগে কথাপ্রসঙ্গে জানা গেল সমীরণের গদ্যরচনাগুলোকে একত্রিত করে একটি গদ্যগ্রন্থও প্রকাশ করা যায়। আমি আশা করব অকাল প্রয়াত সমীরণ আবার তাঁর কবিতার সঙ্গে বার বার ফিরে ফিরে আসুক।

     


বৃহস্পতিবার

হাংরি আন্দোলনের কবি সমীরণ ঘোষ সম্পর্কে রাজা সাহা

নিজের চেনা-জানা জগৎ নিয়ে দারুন সন্দিহান আমি। এত বেশি অজানার মধ্যে দিয়ে হাঁটলে বোধহয় এমনটাই হয়। তাই খোঁজ চলে, চলবে শেষ দিন পর্যন্ত। আমি নিয়তিতে বিশ্বাসী নই। তবে জানিনা কিসের খেলায় কখনো সখনো আমার হাতেও এসে যায় আলাদিন'এর চেরাগ। যেমন একদিন পেয়েছিলাম কবি সুজিত অধিকারীর ' ডাউন ট্রেনের কামরায় '। আর তারপর বাকিটা ইতিহাস... 

দেড় দু মাস আগে মৃত প্রায় কবি বন্ধুর জন্যে মানবিক সাহায্য চাইতে হাজির হয়ে ছিলাম এক কবি সভায়। বিশেষ লাভ হয়নি। কিন্তু ওই সভাতেই পরিচয় হয় কবি সব্যসাচী ঘোষ'এর সাথে। সেই সময় যখন প্রায় সব নামি দামি মুখগুলি নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে সুচতুর কৌশলে , তখন দেখলাম সব্যসাচী নিজের জায়গা থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে অসুস্থ কবির পাশে থাকার। এই কারনেই ওকে আলাদা করে মনে রাখা এবং ফোনের মাধ্যমে বন্ধুত্ব জমে উঠা। 

ফোনেই ঠিক হয় একদিন মালবাজার'এ (সব্যসাচীর শহর) জমিয়ে আড্ডা দেবো। সময়- সুযোগ হয়ে গেলো এক সোমবার। মালবাজার বাস স্ট্যান্ড'এ আমাদের কবিতা আড্ডা শেষ হওয়ার পর সব্যসাচী আমাকে ওর বাড়ি নিয়ে যায় আর সেখানেই আবার আরো এক আলাদিন এর চেরাগ আমার হাতে চলে আসে।

কবি সমীরণ ঘোষ(সম্পর্কে সব্যসাচীর বাবা)। বারুদে ঠাসা এক কলম। উত্তরবঙ্গে হাংরি জেনারেশন এর উজ্জত্ম প্রতিনিধি। আমি জেনে একই সাথে অবাক ও গর্বিত যে কবি সমীরণ ঘোষ শহর শিলিগুড়িতে দীর্ঘ দিন বসবাস করেছে। অনেক তথ্য জানাছিলোনা। জানতে দেওয়া হয়নি না কি আমার জানতে চাওয়ায় খামতি ছিলো, সে বিতর্ক ভুলে গত দুদিন ধরে মেতে আছি সমীরণ বাবুর কবিতায় বা বলা ভালো আগুনে

*বন্ধু'দের জন্য রইল কবির দুটো কবিতা আর কাব্যগ্রন্থ'এর ছবি
[পোস্টটা করেছি মুলত সেই সব বন্ধু আর ভাইদের কথা মাথায় রেখে যারা বারুদের খোঁজে কবিতার বই এর পাতা ওল্টায়]